এর আগে ‘অঙ্গার’ ও ‘নিয়তি’ নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছিলেন জলি (Joly)। শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে নাদের চৌধুরীর পরিচালনায় ভিন্ন স্বাদের সিনেমা ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’। জলির অভিনয় দেখে বলিউডের বিদ্যা বালানের সাথে তুলনা করেছেন সিনেমাটির প্রযোজক আব্দুল আজিজ।
‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ মুক্তি উপলক্ষে সম্প্রতি নানা বিষয়ে কথা বলেছেন জলি। তার নির্বাচিত অংশ পড়ুন—
এর আগেও গ্রামীণ পেক্ষাপটের সিনেমাতে অভিনয় করেছেন জলি? এই সিনেমাটিও গ্রামীণ গল্পের। ভিন্নতা কী থাকছে?
এই সিনেমায় আমাকে যতটা সাদামাটা চরিত্রে দর্শক দেখবেন তেমনটি আগে দেখা যায়নি। এখানে গ্ল্যামারের থেকে অভিনয় ও চরিত্রই প্রাধান্য পেয়েছে বেশি। গল্পটির মধ্যে খুব সহজেই প্রবেশ করবে সবাই। আর শেষ না করে উপায় নেই। ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ পুরোটাই মাটির গল্প।
এই যে একের পর এক সিনেমায় সাদামাটা চরিত্রে অভিনয় করছেন, গ্ল্যামারাস নায়িকা হতে ইচ্ছে করে না?
সিনেমার গল্প যা ডিমান্ড করে আমি সেটাই করেছি। গ্লামারের লোভ আমাকে তাড়িত করেনি তখন। টানা চৌদ্দদিন মেকাপ ছাড়াই অভিনয় করেছি। দৃশ্যগুলো ছিল নদীর উপর। সানস্ক্রিন ক্রিম লাগানোর সময় পাইনি। আমার কাছে একটা সাদা রুমাল ছিল। মাঝে মধ্যে নদীর পানিতে এই রুমাল ভিজিয়ে মুখ মুছতাম। আরেকটি মজার ব্যাপার ঘটেছে এই সিনেমাতে আমি স্কুটি চালিয়েছি।
গানগুলোতে কিন্তু সাদামাটা মেয়েটিকে যথেষ্ট গ্ল্যামারাস দেখা গেছে?
এটা আসলে প্রয়োজন ছিল। নবান্ন উৎসবে দেখা যায় আমাকে। গ্রামের মেয়ে তাতে সমস্যা কী! কোন একটা উৎসবে গ্রামের মেয়েরা তো একটু সাজুগুজু করে। আমিও সেজেছি। নেচেছি মন খুলে। নাচ দেখেই আমার প্রেমে পড়েছে গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজা।
সিনেমাটিতে ধর্মীয়ও প্রেক্ষাপট এসেছে। প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্ম। নারী হিসেবে এটা কীভাবে দেখেন?
মূল কথা হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটা ভালোবাসার গল্প তুলে ধরা হয়েছে এখানে। ছেলেটির নাম রাজা মুসলিম। সে কৃষ্ণকলিকে পেতে যা ইচ্ছে তাই করে। আর মেয়েটি তার পরিবারের সাথে থাকার জন্য লড়াই করে।
পরিবার আগে নাকি ভালোবাসা?
অবশ্যই পরিবার আগে।
সিনেমাতে কোনটা স্টাবলিশ হয়েছে?
দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যেই গল্পটি শেষ হয়েছে। দর্শকের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ব্যাপারটি। ভাবনার বিষয় থেকে যায় মেয়েটি এখন কোথায় যাবে!
চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য অনেক স্ট্রাগল করতে হয়। আপনার ক্ষেত্রেও কি তাই?
অবশ্যই। তবে আমি মনে হয় সৌভাগ্যবান। জাজের মতো একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আমার যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে স্ট্রাগল তো করতেই হবে। আমি এখনো স্ট্রাগল করছি। অনেক কিছু শিখছি। শিখতে হয়েছে। এখনো শিখছি। এই সিনেমাতে আমার সাথে অভিনয় করেছে অনেক গুণী অভিনেতা। তাদের কাছে অনেক কিছু শিখেছি।
ফিল্মে এসে অনেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন। একটা সময় পরে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন সিনেমা করবেন কী করবেন না! আপনার কী মনে হয়?
আমার কেবল শুরু। অভিনয়ে আসব কি-না এক সময় ভাবতাম। পরিবারের কথা শুনে ভেবেছিলাম অভিনয়ে আসব না। কিন্তু কোনোভাবেই মনকে বুঝাতে পারিনি। ভাবতে ভাবতে অসুস্থ হয়ে যেতাম। পরে অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মনে হয় আমি ভালো করেছি। অন্য সবাইকে বলব, কেউ যেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে না থাকে। ভেবে-চিন্তে মনের কথা শোনাটায় বুদ্ধিমানের কাজ। আমিও তাই করেছি।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
অভিনয়টা ছাড়তে চাই না। অভিনয় করে যেতে চাই।
সবশেষে দর্শকদের কিছু বলতে চান?
সবাইকে হলে গিয়ে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ দেখার আমন্ত্রণ। সবাই বাংলা সিনেমার সাথে থাকুন। তবেই এগিয়ে যাবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি।


No comments:
Post a Comment