ফেরদৌসী মজুমদার। বরেণ্য অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। 'আন্তর্জাতিক নারী দিবস' উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঙ্গনে নারীর অবস্থান ও নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বললেন তিনি_
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। একজন নারী হিসেবে আপনার কাছে এ দিনটির মাহাত্ম্য কেমন?
নারী পরিচয় আমার গর্ব। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিশ্বের সব নারীর মঙ্গল কামনা করছি। আমি মনে করি, নারী ও পুরুষ আলাদা সত্তা নয়, সবাই মানুষ। তারপরও একজন নারীর জীবনে প্রতিবন্ধকতার সীমা নেই। সামাজিক অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজের অধিকার থেকে এখনও বঞ্চিত। এ অবস্থা থেকে নারীকে নিজ চেষ্টায় সব বাধা অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি দিনই সংগ্রামের। তাই নারী দিবস উদযাপনের পাশাপাশি নারীর এগিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম যেন অব্যাহত থাকে, এ কামনা করি।
পেশাজীবনে কখনও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন?
পেশাজীবনে পারিশ্রমিক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে তেমন বাধার শিকার হইনি। আমাদের বড় বাধা ছিল ধর্মবিশ্বাস। সে সময় নারীদের অভিনয়, নাচ কিংবা গান করা পরিবার থেকে সমর্থন করা হতো না। ইচ্ছা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ দূরে থাক, নিষেধাজ্ঞার অভাব ছিল না। অন্যায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে চারপাশের ব্যুহ অতিক্রম করে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে।
বর্তমান সময়ে নারীর অবস্থান নিয়ে আপনার অভিমত কী?
বর্তমানে নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে। অনেক প্রতিবন্ধকতা এখনও আছে, কিন্তু এ জন্য এককভাবে পুরুষ দায়ী নয়। আমি নারী ও পুরুষকে এক করে দেখি। কারণ, নারীর সহযোদ্ধা হিসেবে পুরুষ না থাকলে আধুনিক সমাজ নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই নারীর বিপদে সবাই যেমন এগিয়ে আসবে, নারীকেও সবার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে।
বিভিন্ন নাট্যদলে এখনও নারীকর্মীর সংকট দেখা যায়...
একটা সময় পর্যন্ত এ সংকট ছিল, কিন্তু আমার নিজের দল ও ঢাকার অন্যান্য দলে নারীকর্মীর সংকট খুব একটা নেই। তবে প্রান্তিক নাট্যদলে এখনও এ সমস্যা আছে। এর কারণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা। তবে নাট্যাঙ্গনের মূল সমস্যা কিন্তু নারী নয়, অভাব ভালো পাণ্ডুলিপির। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ভালো নাট্যকার পাচ্ছি না। সে কারণে শক্তিশালী নাটক পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।


No comments:
Post a Comment