রেগে গেলেই যার মুঠো ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে তীক্ষষ্ট ছুরির ফলা, ক্ষিপ্রগতিতে যে ঝাঁপিয়ে পড়ত শত্রুপক্ষের ওপর, সেই সুপারহিরো লোগানকে আর দেখা যাবে না পর্দায়, সত্যিই মন খারাপ করার মতোই খবর। তাই আগামীকাল মুক্তি পেতে যাওয়া এক্সম্যান সিরিজের 'লোগান (logan) ' নিয়ে দর্শক আগ্রহ তুঙ্গে।
জনপ্রিয় অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যানকে সুপারহিরো উলভারিন বা লোগান চরিত্রে আর দেখা যাবে না। সে কারণেই ছবির গল্পেও রয়েছে ভিন্নতা। ২০০৮ সালে প্রকাশিত মার্ভেল কমিক্সের 'ওল্ডম্যান লোগান'-এর কাহিনী অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ছবিটি। এতে দেখা যাবে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীতে মিউট্যান্টদের অস্তিত্ব থাকবে না। বেঁচে থাকবে শুধু লোগান আর প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার। লোগানের একটি ভুলের কারণেই শেষ হয়ে গেছে মিউট্যান্টরা। নিজেকে তাই ক্ষমা করতে পারছে না লোগান। প্রতিনিয়ত এই ভাবনা তাকে শেষ করে দিচ্ছে। মেক্সিকোর অদূরে লিমোজিন গাড়িচালক হিসেবে তার একাকী বসবাস। মানুষের কাছে লুকিয়ে রাখছে নিজের শক্তির খবর। এভাবে যখন সময় কাটছে, একদিন এক অল্পবয়সী মেয়ে মিউট্যান্টের কথা জানতে পারে লোগান। এই খবর তাকে জানায় মিউট্যান্টদের গুরু প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার। প্রফেসরও বয়স আর রোগে-শোকে কাতর। লোগানকে তিনি জানান, মেয়েটি গভীর বিপদের মুখোমুখি। এসেক্স করপোরেশন, যারা কিনা সব মিউট্যান্টকে ধ্বংস করেছে, তারাই এখন লরা নামের সেই মেয়েটিকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। লরাও আবার লোগানের মতোই দুর্ধর্ষ। লোগানের জিন ব্যবহার করে মেয়েটিকে তৈরি করা হয়েছিল একসময়। মেয়েটিকে উদ্ধারে অভিযানে নামে লোগান, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রাণান্ত চেষ্টায় বুড়ো লোগান ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে।
বরাবরের মতো এ ছবিতেও লোগান চরিত্রে অভিনয় করেছেন হিউ জ্যাকম্যান। হলিউডের নামিদামি সিনেমা সমালোচকরা ইতিমধ্যে জ্যাকম্যানের অনবদ্য অভিনয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অন্যান্য চরিত্র অভিনয় করেছেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট, রিচার্ড ই গ্র্যান্ট, স্টিফেন মার্চেন্ট, ডাফিন কিনসহ অনেকে। উলভারিন সিরিজের আগের ছবি 'দ্য উলভারিন'-এর পরিচালক জেমস ম্যাঙ্গোল্ড এবারের ছবিটিরও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন।
উলভারিনের জীবনের গল্প নিয়ে ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। 'এক্সম্যান অরিজিনস :দ্য উলভারিন' ও 'দ্য উলভারিন' শিরোনামের ছবি দুটি বক্স অফিসে বেশ সাড়া ফেলেছিল। এবারের ছবিটি নিয়েও ইতিমধ্যে বেশ আলোচনা চলছে হলিউডের সিনেমার বাজারে। রোটেন টমেটো, ফান্ডাগোসহ অনলাইন সিনোম রেটিং ওয়েবসাইটগুলোতে রিভিউ আর আলোচনায় ভরে উঠেছে সিনেমাটির ওয়াল পেজ। ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারেও আলোচনার ঝড়। ছবির নির্মাণ, গল্প আর অভিনয় শিল্পীদের দুর্দান্ত অভিনয়ে 'লোগান' যে এবারও দর্শক-সমালোচকদের মন জয় করে নেবে- এ কথা বলাই বাহুল্য।
মার্ভেল এন্টারটেইনমেন্ট, টিএসজি এন্টারটেইনমেন্ট আর দ্য ডোনার্স কোম্পানির যৌথ প্রযোজনায় লোগান ছবিটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। ছবিটির প্রযোজক সংস্থা প্রথম সপ্তাহে আয়ের সম্ভাব্য হিসাব কষছেন ৫৫ থেকে ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। শেষবারের মতো উলভারিন লোগান যখন পর্দায় হাজির হচ্ছেন, তখন আয় আরও বেড়ে যেতে পারে।
এই লেখার শেষে, লোগানের দর্শকদের জন্য আরেকটি সুখবর জানিয়ে যেতে চাই, সেটা হলো- পর্দায় এককভাবে নতুন ছবিতে হয়তো লোগানকে দেখা যাবে না। তবে মার্ভেল কমিক্সের অন্য কোনো সুপারহিরো মুভিতে লোগানকে দেখলে খারাপ লাগার কথা নয়। লোগানের দর্শকপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে মার্ভেল কমিক্স ইতিমধ্যে 'অ্যান্টম্যান' সিরিজের নতুন ছবিতে উলভারিন লোগানকে হাজির করার কথাও ভাবছেন। সেটা হলে কিন্তু মন্দ হয় না। এবার তবে দেখার পালা_ আমাদের বুড়ো লোগান তার শেষ ছবিতে কেমন করে।


No comments:
Post a Comment