‘মেয়েটা ভালো না, নেশা করে’—কোনো হবু স্বামীর সামনে কেউ যদি এমন কথা বলে, তা কি শুনতে ভালো লাগবে? লিয়াম হেমসওর্থ তো অন্য দশজন মানুষের চেয়ে আলাদা নন। তাই হবু স্ত্রী মাইলি সাইরাসের ব্যাপারে কেউ যখন এমন কথা বলে, তখন তাঁর তা শুনতে কষ্ট হয়। এ জন্যই তো মাইলিকে শক্ত শর্ত দিয়েছেন লিয়াম, লিয়ামকে বিয়ে করতে হলে মাইলিকে ছাড়তে হবে মাদকের নেশা। মাইলিও তা–ই করলেন। লিয়ামকে বিয়ে করার জন্য মাদকের বিষাক্ত ছায়া থেকে বেরিয়ে এলেন।
হলিউডের আলোচিত সংগীত ও অভিনয়শিল্পী মাইলি সাইরাস ভয়ংকর রকমের মাদকাসক্ত ছিলেন। একটি মার্কিন সাময়িকী মাইলির মাদকাসক্তি নিয়ে করা একটি প্রতিবেদনে লিখেছিল, হেন কোনো মাদক নেই, যা মাইলি সেবন করেননি। গাঁজা থেকে শুরু করে হেরোইন, কোকেন, এলএসডি, আরও কত নাম না–জানা মাদক সবই নিয়মিত সেবন করতেন এই ‘হ্যানা মন্টানা’ তারকা। তা ছাড়া এই মাদকের প্রভাবেই তাঁর জীবনযাপনও হয়ে ওঠে উচ্ছৃঙ্খল। কিন্তু লিয়াম হেমসওর্থ এখন তাঁকে আবারও সেই হ্যানা মন্টানা সময়কার মিষ্টি মাইলির রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মাদকাসক্তি ছাড়ার পাশাপাশি মাইলিকে আপত্তিকর মঞ্চ পরিবেশনা ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন থেকে বেরিয়ে আসার শর্তও দিয়েছেন লিয়াম।
মাইলি সাইরাসের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাডার অনলাইনকে বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে মাইলি সব ধরনের মাদক থেকে দূরে আছেন। মাদক ছাড়ার প্রথম সপ্তাহটি খুব কঠিন ছিল তাঁর জন্য। কিন্তু মাইলি সে সময়টা সফলতার সঙ্গেই পেরিয়ে এসেছেন।
লিয়াম ও মাইলির বিয়ের ব্যাপারে সেই বন্ধুটি বলেন, একেবারেই ঘরোয়া আয়োজনে হবে এই দুই তারকার বিয়ে। লিয়ামের ভাই হলিউড তারকা ক্রিস হেমসওর্থের অস্ট্রেলিয়ার বাড়িতে হবে বিয়ে। সেখানে মাইলির বাবা বিলি রে সাইরাসসহ আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে এসে অভিনয় ও গানের জগতের বন্ধুদের নিয়েও বিয়ে উদ্যাপন করবেন তাঁরা।
২০১০ সালে ‘দ্য লাস্ট সং’ ছবির সেট থেকে প্রেম শুরু হয় লিয়াম ও মাইলির। ২০১৩ সালে ভেঙে যায় দুজনের সম্পর্ক। এরপর মাইলি বিপথে চলে যান। শুরু করেন মাদক গ্রহণ। বিগড়ে যায় তাঁর জীবনযাপন। কিন্তু এ বছরের শুরুর দিকে মাইলির জীবনে আবারও লিয়াম ফিরে আসেন। শোধরাতে থাকেন বিগড়ে যাওয়া মাইলি। তিন বছর আগের বাগদানের আংটিটি আবারও মাইলির অনামিকায় দেখা যায়। লিয়ামের এক বন্ধু মাইলির এই ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে বলেছেন, ‘লিয়াম কখনোই চাইত না, তার হবু স্ত্রী ও ভবিষ্যৎ সন্তানের মা মাদকে আসক্ত হোক। তাই মাইলির ব্যাপারে বরাবরই দ্বিধাগ্রস্ত ছিল সে। কিন্তু লিয়ামের জন্য মাইলি নিজেকে যেভাবে নতুন করে গুছিয়ে আনল, তা দেখে এখন লিয়াম অনেকটাই আশ্বস্ত ও আত্মবিশ্বাসী। সে এখন মাইলিকে নিয়ে গর্ব করে।’


No comments:
Post a Comment