তানহা তাসনিয়ার নায়িকা হওয়ার গল্পটি মজার। ফেসবুক পরিচয়ে ‘ভোলা তো তারে যায় না’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন নীরব। সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ১৮ মার্চ। এরপর অনেকটা আড়ালে চলে যান তানহা। কেন? সে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছেন ।
কেমন আছেন?
ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন?
আছি। কিন্তু আড়ালে থাকার রহস্য কী?
আড়ালে কই? এই যে সবার সাথে যোগাযোগ আছে।
আপাতত কোনো ছবির শুটিং করছি না এটা ঠিক। কিন্তু ফটোশুট করছি। এ জন্য হয়ত
আপনার মনে হচ্ছে আড়ালে চলে গেছি।
ইদানিং নাকি জিমে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ যাচ্ছি। কিছুদিন শুটিং না থাকায়
একটু ফ্যাটি হয়ে গেছিলাম। তাই প্রতিদিন ২-৪ ঘণ্টা জিম করছি। মিরপুরে বাসার
পাশেই একটা লেডিস জিম আছে। ওখানেই প্রতিদিন বিকেলে ব্যায়াম করি। সামনের
ছবিগুলোর জন্য নিজেকে নতুনরূপে আনতে চাইছি।
এটাই তাহলে আড়ালে যাওয়ার রহস্য! আর নাচ-অভিনয়ের প্রস্তুতি?
আরে রহস্য-টহস্য কিছু না। নিজেকে প্রস্তুত
করব না! না হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবো কীভাবে? নাচ তো ছোটবেলায় শিখেছি।
তাই আলাদা প্রস্তুতির কিছু নেই। জিমে আমরা অ্যারোবিক্স করছি। মানে নাচের
তালে তালে ব্যায়াম। ইয়োগা ও অন্যান্য ব্যায়াম তো আছেই।
পরিচালক জাকির হোসেন রাজু স্যার আলাদাভাবে
গ্রুমিং করাচ্ছেন। উনি বলেছেন, ‘মা তোমাকে গড়ার দায়িত্ব আমার’। উনি আমাকে
সন্তানের মতো করে অনেক কিছু শেখাচ্ছেন। উনার কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ।
‘জানবাজ’ ও ‘ভালো থেকো’তে কী ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে?
‘জানবাজ’-এ ওয়াজেদ আলী সুমন স্যারের
পরিচালনায় বিপরীতে আছেন বাপ্পী। বড়লোকের অহংকারী, রাগী ও জেদী মেয়ের
চরিত্রে দেখা যাবে আমাকে। ছেলেদের পাত্তা দিই না। বাপ্পী অনেক কিছু করে
প্রেমে রাজি করায়। এ সময় হুট করে আমার পরিবারের সবাই খুন হয়। তখন কাহিনী
অন্যদিকে মোড় নেয়।
আরিফিন শুভর সঙ্গে করছি ‘ভালো থেকো’। এর
কাহিনী রোমান্টিক। কিন্তু গতানুগতিক রোমান্টিক গল্পের তুলনায় ভিন্নতা আছে।
রাজু স্যারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বেশি কিছু বলতে পারছি না।
শুভ ও বাপ্পী এ সময়ের জনপ্রিয় নায়ক। তাদের প্রচুর ভক্ত রয়েছে। আপনি কার ভক্ত?
এটা কেমন প্রশ্ন করলা ভাইয়া! আমি কার নাম
বলি আর কে রাগ করে। দুজনকেই ভালো লাগে। আর যেহেতু দুজনের সাথেই কাজ করতে
যাচ্ছি— আমার চাওয়া থাকবে দুটো ছবিই যেন ভালো হয় আর দর্শক ছবিগুলো দেখে।
শাকিবের সাথেও তো ‘ধূমকেতু’ করছেন। অনেকদিন তো হলো— শুটিং কেন শেষ হচ্ছে না?
এটা তো পরিচালকের ব্যাপার। আমি যেটা জানি শাকিব ভাইয়ার শিডিউল না মেলাতে পারায় এমনটা হচ্ছে। শাকিব ভাইয়ার শিডিউল পেলেই শেষ হয়ে যাবে।

আর কোনো ছবি?
‘ভোলা তো তারে যায় না’ মুক্তির পর অনেক
অফার পেয়েছি। আপাতত সম্পূর্ণ নতুন নায়কদের সাথে কাজ করতে চাই না। কারণ আমি
নিজেও নতুন। প্রথম ছবি নীরবের সাথে, এরপর শাকিব ভাইয়ার সাথে। এরপর বাপ্পী ও
আরিফিন শুভর সাথে। তাই ঝুঁকিতে যেতে চাচ্ছি না। যদি ভালো গল্প, পরিচালক ও
প্রযোজনা সংস্থার ছবি হয় তাহলে নতুন নায়কের বিষয়টি ভেবে দেখব।
প্রথম ছবির পরিচালক ও নায়ক আপনাকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আপনিও দিয়েছিলেন।
নীরব ও রফিক শিকদারের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে
এসেছি আমি। এটা সবসময় বলি। তাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ব্যাপারটা হয়েছে
পুরোটাই ভুল বোঝাবুঝি। মনে করি না আমি ও উনি (রফিক শিকদার) খারাপ কিছু
করেছি। উনার স্ট্যাটাস দেখে অনেকে ভেবেছিল আমি বুঝি অকৃতজ্ঞ। নিজেকে
ক্লিয়ার করার জন্য স্ট্যাটাসটা দিয়েছিলাম। যতটুকু চিনি রফিক শিকদার লোক
হিসেবে খারাপ না। আমার মনে হয়— তৃতীয় কোনো পক্ষ সমস্যাটা তৈরি করেছে।
কেউ হয়ত বলেছে— ‘আপনি চান্স দিয়েছেন, আর
সে আপনার কথা শুনলো না, ছবির প্রচারণায় গেল না। এটা তো আপনি কোনভাবেই সহ্য
করতে পারেন না।’ আসলে আমি তখন হাসপাতালে ছিলাম। এটা তো স্ট্যাটাসে উল্লেখ
করেছি।
এখন তো অনেক নায়িকা। এদের ভিড়ে নিজেকে কীভাবে টিকিয়ে রাখবেন?
ওই যে বললাম, নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত
করছি। দর্শকরা আমাকে নতুনরূপে দেখতে পাবেন। প্রথম ছবির ভুল-ত্রুটির সংশোধন
করার চেষ্টা থাকবে। বছরে ১৫-২০টি ছবি না করে হাতে গোনা ৪-৫টি ছবি করব।
যেগুলো দর্শক দেখবে, অনেকদিন মনে রাখবেও।


No comments:
Post a Comment