৫ ফেব্রুয়ারি, রোববার। আরিফিন শুভর (Arefin shuvo) জন্য দিনটি হওয়ার কথা উৎসবমুখর। উৎসবটা পরিবার ঘিরে। বিশেষ করে স্ত্রীকে নিয়ে। তেমনটা না হওয়াতে শুভর বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। বললেন, ‘আমার কপালটাই খারাপ। আজ আমার দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী। কিন্তু কোথায় বাসায় দিনটি উদ্যাপন করব, তা না; সেই সকাল থেকেই পথে পথে ঘুরছি।’
এই ‘পথে পথে’ ঘোরার কারণটা পরিষ্কার। আগামীকাল শুক্রবার অর্ধশতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে জাকির হোসেন পরিচালিত প্রেমী ও প্রেমী ছবিটি। সেই ছবির প্রচার নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র অফিস, স্যাটেলাইট চ্যানেলে চষে বেড়াচ্ছেন ছবির অভিনয়শিল্পী শুভ ও ফারিয়া।
আলাপ শুরু করার আগেই ফারিয়া জানিয়ে রাখলেন, অন্য কোনো ছবির বেলায় এত প্রচারণায় অংশ নেননি। ফারিয়ার কথা ধরেই শুরু করি আলাপ।
তাহলে এই ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা বেশি নাকি? দুজনের কাছে প্রশ্ন রাখি। উত্তরটা দেন ফারিয়া। বলেন, ‘আসলেই প্রত্যাশা বেশি। এই ছবিটি দিয়েই আমার চলচ্চিত্রে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। তার আগে আরও তিনটি ছবি মুক্তি পেয়ে গেছে। ছবিটির শুটিংয়ে পরিশ্রমও হয়েছে বেশি।’
সেটা কেমন? এবার উত্তর দিলেন শুভ। তাঁর কথা, ‘ছবিটির শুটিং হয়েছে ছয় মাস ধরে। বান্দরবানের পাহাড়ে শুটিং করতে গিয়ে তুমুল ঝড়-বৃষ্টিসহ নানা ধরনের বিপদ-আপদের মধ্যে শুটিং করতে হয়েছে। শুটিং চলাকালীন কখনো কখনো মনে হয়েছে, হয়তো এই ছবির শুটিং আর শেষই হবে না।’
কথায় বলে না, যে কাজে যত বেশি কষ্ট, তার ফলটাও তত মিষ্টি। একটি পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন এই অভিনেতা। বলেন, ‘ছুঁয়ে দিলে মন ছবির বেলায়ও সিলেটে পাহাড়-টিলাতে শুটিং করতে গিয়েও অসহনীয় পরিশ্রম হয়েছিল। কিন্তু ছবিটি মুক্তির পর দর্শকের কাছে দারুণ প্রশংসা পেয়েছে ছবিটি।’
এমন কী আছে ছবিতে, যে জন্য দর্শক যাবে সিনেমা হলে?
শুভ বলেন, ‘গল্পটাই একটা জার্নি। দর্শকেরা হলে দেখতে বসে গল্পের মধ্যে ঢুকে যাবেন। আমার বিশ্বাস, গল্পের জার্নি শেষ না করে উঠতে পারবেন না দর্শক।’
ফারিয়া যোগ করেন, ‘গল্পটি শক্তিশালী। রোমান্টিক কমেডি। তবে এটি কোনো চাপিয়ে দেওয়া কমেডি নয়। দর্শকেরা উপভোগ করবেন।’
এই ছবিটি করতে গিয়ে দারুণ রোমাঞ্চকর স্মৃতি আছে শুভর। তিনি বলেন, ‘বান্দরবানের পাহাড়ে শুটিং চলছিল। হঠাৎ দেখি, আমরা পাহাড়ের ওপরে আর মেঘ ভাসছে পাহাড়ের নিচে। ডান দিকে ঘুরে দেখি রংধনু। আহা! একদিকে মেঘের ওপরে ভাসছি, অন্যদিকে সাত রঙা আকাশ! এসব দৃশ্য বাইরের দেশে দেখা যায় কিন্তু বাংলাদেশে বসে এমন দৃশ্য সত্যি বিস্ময়কর! দৃশ্যটি ভিডিও করে রেখেছি।’
ফারিয়ার অভিজ্ঞতা ভয়ংকর! ‘পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়ার একটি দৃশ্য করতে হবে। বর্ষাকাল। চারপাশে কাদামাটি। শুধু মাটিতে পড়ার অংশটুকু টেক করা হবে। প্রথম শটেই দৃশ্যটি ওকে। দৃশ্যটি করার পর দেখি পুরো শরীর কাদায় ভরে গেছে। নিজের চেহারা নিজেই চিনি না। হঠাৎ করেই পরিচালক বললেন, ‘‘ফারিয়া খুব ভালো হয়েছে শটটি। তবে এই দৃশ্যটি আরেকবার নিতে হবে।” এ কথা শুনেই আমার হাঁচি চলে আসে। দেখি, হাঁচির সময় নাক দিয়ে ইটের টুকরা বের হয়ে এল। তাহলে বোঝেন, কী ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে পড়েছিলাম সেদিন।’
এদিকে শুভর অস্থিরতা বেড়েই চলেছে! আবারও নিজের বিবাহবার্ষিকীর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন এই নায়ক।


No comments:
Post a Comment