শুরুর দিকে পাত্তা পেতেন না কোথাও। যখন বুঝতে পারলেন, তখন ছক্কা মেরে স্টেডিয়ামে বাইরে বল ফেললেন বলিউডের উঠতি পরিচালক আলি আব্বাস জাফর।ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডের জোর নেই। নেই কোনও চেনাশোনা হামবড়া ব্যক্তিও। শুধুমাত্র ট্যালেন্ট আর উপস্থিত বুদ্ধির জোরে পর পর ছক্কা মারছেন বক্স অফিসে।
আলি জানেন, ইন্ড্রাস্ট্রিতে সুপারডুপার হিট সিনেমা করতে গেলে কী করতে হবে। তাই বিতর্ক পিছু তাড়া করলেও, সুলতানের জন্য সালমানকেই প্রথম পছন্দ করেন তিনি। তারপর যা হল, তা সকলেরই জানা। আলির পরিচালিত সুলতান এবছরের ব্লকবাস্টার মুভি। ৬০০ কোটি টাকা তুলে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন ইতোমধ্যেই।
উল্লেখ্য, ২৪ বছরে DDLJ বানিয়েছিলেন আদিত্য চোপড়া। ৩৫ বছর বয়সে দিল চ্যাহেতা হ্যায় বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মাল্টিট্যালেন্টেড ফারহান আখতার। ওই বয়সেই ডন আর লক্ষ্য বানিয়েছিলেন তিনি। ওই একই বয়সে কাভি খুশি কাভি গম আর কভি আলবিদা না কহেনা সিনেমা বানিয়েছেন করণ জোহর। ৩০ বছরে ওয়েক আপ সিড, ভয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি বানিয়ে দর্শকের মন করেছেন অয়ন মুখোপাধ্যায়। এমনকি সত্যজিত্ রায়, ৩৪ বছর বয়সেই পথের পাঁচালি বানিয়েছিলেন।
মেরে ব্রাদার কি দুলহন, গুন্ডে ছবির পরিচালনা করে তাঁর বলিউডে প্রবেশ। তবে খুশি ছিলেন না আলি। ব্লকবাস্টার ছবি তৈরি করতে সলমন খানের সঙ্গে দেখা করতে চাইছিলেন। ক্যাটরিনা কাইফের মাধ্যেমে প্রথম সাক্ষাত্ হয় সল্লু মিঞার সঙ্গে। সুলতানের স্ক্রিপ্ট শুনেই মত দিয়েছিলেন সালমান।
সুলতান বানাতে গিয়েও হোঁচট খেতে হয়েছিল আলি আব্বাস জাফরকে। ২০১২ সালের অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন কুস্তিগীর সুশীল কুমার। সেই থেকেই মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, কুস্তি নিয়েই এবারের একটি ছবি বানাতে হবে। কোনও পদকজয়ী কুস্তিগীরের কাহিনি নয়, জীবনের লড়াইয়ের সঙ্গে দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থার দিকেও তাক করেছিলেন। ১০ পাতার একটি চিঠি লিখেছিলেন আদিত্য চোপড়াকে। সেই সময় বলেছিলেন, "ইয়ার, রেস্টলার-ওয়ালি পিকচার কউন দেখেগা!"
ছবি রিলিজ করার পর সাতসকালে আলির কাছে ফোন এসেছিল আদিত্য চোপড়ার। ৩৩ বছর বয়সী এই ইয়ং ডিরেক্টরের বাবা ছিলেন একজন সেনা। দেরাদুন থেকে দিল্লি ইউনিভার্সিটি হয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি দেন আলি। বলিউডে নিজের ট্যালেন্টের ছাপ রাখতে প্রথমে কাজ শুরু করেন অ্যাড এজেম্সিতে। ২০০৬ সালে ব্রেক পান বলিউডে। ঝুম বরাবর ঝুম ছবির পরিচালক শায়াদ আলির অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন আলি। তারপর বহুদিন ধরে যুক্ত ছিলেন যশরাজ স্টুডিও-র সঙ্গে। সেখানেই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে। ২০১২ সালের কবির খানের এক থা টাইগারের সিক্যয়েল টাইগার জিন্দা হ্যায় ছবি বানানোর গুরুভার পড়েছে এই উঠতি পরিচালকের উপর।


No comments:
Post a Comment