Shimul Yousuf, মঞ্চকুসুমখ্যাত এ অভিনেত্রীর ৬০তম জন্মদিন আজ। অভিনয় ছাড়াও যিনি নাট্যনির্দেশক, সম্পাদক, কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীতায়োজক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। শিল্পীজীবনের অর্জন, আগামী দিনের ভাবনাসহ অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি
জন্মদিনে আপনাকে শুভেচ্ছা। এবার বলুন, দিনটি কীভাবে উদযাপন করবেন?
জন্মদিনের শুভেচ্ছার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এবার বলি, ৬০তম জন্মদিন বাইরে কোথাও নয়, বাসাতেই উদযাপন করব। এর আগেও বাসায় ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করতাম। ঢাকা থিয়েটার ও অন্যান্য দলের ছেলেমেয়েরা কেক নিয়ে চলে আসত। কেক কেটে সবাই মিলে আনন্দ করতাম। থিয়েটারেও যাওয়া হতো। কিন্তু আমি তো বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। বাইরে কোথাও যেতে পারি না। তাই জন্মদিনকে ঘিরে যে আয়োজন, তা বাসাতেই হবে।
সংস্কৃতিকর্মীরা শিল্পকলা একাডেমিতে 'মঞ্চকুসুম শিমূলের ৬০ জন্মজয়ন্তী'র যে আয়োজন করেছে, সেখানে থাকবেন কি?
শরীর খুবই খারাপ। তারপরও যত কষ্ট হোক, এই আয়োজনে থাকব। সংস্কৃতিকর্মীদের এই ভালোবাসায় সাড়া দিতে না পারলে নিজেরই খারাপ লাগবে। দুই দিনের এই আয়োজনে আজ আহকামউল্লাহ, রুপা চক্রবর্তী ও আশরাফুল আলম আবৃত্তি করবেন। গান শোনাবেন সুবীর নন্দী ও জলের গান। শুনেছি, কেউ কেউ নাটকের সংলাপ পাঠ করবেন। আর দিলু বয়াতি শোনাবেন 'সয়ফুল মুলক বদিউজ্জামাল' পালা। আগামীকাল রবীন্দ্র, নজরুলসঙ্গীত ও লালনগীতির পরিবেশনা থাকছে। এ আয়োজনে পুরোটা সময় না পারলেও অন্তত আজ সন্ধ্যায় শিল্পকলায় থাকব।
এই দিনে বিশেষ কোন মুহূর্তের কথা মনে পড়ে?
৫০তম জন্মদিনের কথা মাঝেমধ্যেই মনে পড়ে। সে বছর সেলিম আল দীন আমাদের সঙ্গে ছিলেন। শুধু তাই নয়, মার্চ মাসের প্রথম দিন থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জন্মদিনের সূচনা করেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চের সেই আয়োজন কখনও ভুলব না।
আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কী?
জীবন কী_ এ প্রশ্নই তো কখনও নিজেকে করিনি। জন্মের পর নানা চড়াই-উতরাই পেরোনো, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ কষা_ এসবের মধ্য দিয়ে অনেকের জীবন কেটে যাচ্ছে। আমিও নানা কাজের মধ্য দিয়ে জীবনের অনেকটা সময় পার করেছি। অথচ জীবনের অর্থ কী, তা আলাদা করে কখনও ভাবিনি। যে জন্য জীবনের সঠিক কোনো সংজ্ঞা আমার জানা নেই।
এবার জানতে চাই, আপনার মঞ্চকুসুম হয়ে ওঠার পেছনে কাদের ভূমিকা ছিল?
'মঞ্চকুসুম' শব্দটা সেলিম আল দীনের আবিষ্কার। তার 'চাকা' নাটকের বইয়ের উৎসর্গপত্রে আমার নামের আগে শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। কবি সুফিয়া কামাল এ শব্দটি যথার্থ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই খেতাব পাওয়ার কতটা যোগ্য জানি না; কিন্তু সেলিম আল দীন আর সুফিয়া কামালের পর অনেকেই এ খেতাবে ভূষিত করেছেন। সে যাই হোক, অভিনয়ের সুবাদে যা কিছু অর্জন, তার কথা জানতে চাইলে সেলিম আল দীন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ থেকে শুরু করে দলের সবার কথাই বলব। কারণ, মঞ্চ কাউকে বিত্তবান করে না। এখান থেকে বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। সেটা জেনে যারা নিজের সঞ্চিত সময় ব্যয় করে মঞ্চে কাজ করেন, শিল্প-সংস্কৃতির জন্য সেসব মানুষের আত্মত্যাগ আমাকে প্রেরণা জুগিয়েছে।


No comments:
Post a Comment