ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। কিন্তু ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে হঠাৎই নিজেকে আড়াল করেছেন তিনি। গত দুমাসে কোনো ছবির কাজ করেননি অপু বিশ্বাস। এমনকি গত ১০-১৫ দিনে কোনো প্রযোজক বা পরিচালক তার সঙ্গে কোনো ছবি নিয়ে আলাপ করতে পারেননি। সেই সাথে গুলশান এলকার নিকেতনে নিজের ‘এপিএস লেডিস ফিটনেস ক্লাব’ নামের যে ব্যায়ামাগারটি ছিলো সেটিও বন্ধ করে দিয়েছে অপু বিশ্বাস।

গত মে মাসের ৩১ তারিখ কোনো ধরনের ঘোষণা
ছাড়াই বন্ধ করে দিয়েছেন সেই ব্যায়ামাগার। তবে এর আগে পরিশোধ করে দিয়েছেন
কর্মচারীদের পাওনা।
এ ব্যাপারে অপু বিশ্বাসের মামা স্বপন
কুমার বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগেও আমি অপুর ঢাকার বাসায় ছিলাম। তখন কথা
প্রসঙ্গে জানতে পারি তাঁর জিমের ব্যবসাটা ভালো যাচ্ছিল না। কোনো ব্যবসা
ভালো না চললে তা চালিয়ে নেওয়ার কোনো মানে হয় না। মূলত, ব্যবসায়
ধারাবাহিক লসের জন্যই জিমটি বন্ধ করে দিয়েছে সে।
তবে চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকের মতে, অন্য
নায়িকাদের সঙ্গে শাকিবের নিয়মিত কাজ করার বিষয়টি ইদানীং সহজভাবে মেনে নিতে
পারছেন না অপু। আর এ কারণেই হয়তো শাকিবের সঙ্গে নতুন ছবিতে কাজ করার বিষয়ে
তার মনে অভিমান জন্মেছে।
তারা আরও বলেন, বহু নির্মাতার অনুরোধ
সত্ত্বেও অন্য নায়কের সঙ্গে তেমন একটা কাজ করেননি অপু। এমনকি যৌথ প্রযোজনার
ছবির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর এসব করেছেন তিনি শাকিব খানের জন্য। অপু
বিশ্বাস যদি শাকিবের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেন, তাহলে শাকিব কেন পারবেন
না! শাকিবের সঙ্গে ‘বসগিরি’ ছবিতে অপুর ‘না’ করে দেয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করতে
গিয়েই এসব বলছেন তারা।
এসব আলোচনা থেকেই প্রশ্ন উঠছে- শাকিবের
কারণেই কি তাহলে আড়ালে রয়েছেন অপু। ঢাকার ছবির জনপ্রিয় এ নায়িকা বর্তমানে
তার সেল ফোনটি বন্ধ রেখেছেন। অভিমান, রাগ বা ক্ষোভ যাই থাকুক না কেন
চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি শাকিব-অপুর এ ঠাণ্ডা লড়াই খুব
দ্রুত নিষ্পত্তি হোক এটাই সকলের প্রত্যাশা।
অনেক দিন ধরেই সবার লোকচক্ষুর আড়ালে
রয়েছে অপু বিশ্বাস। ছেড়ে দিয়েছেন চুক্তি হওয়া হওয়া সব ছবির কাজ। অপুর এই
আড়ালে থাকার কারণ জানতে চাইলে মামা স্বপন কুমার বিশ্বাস বললেন, ‘এটা তাঁর
ব্যক্তিগত ব্যাপার। সে স্বাধীনচেতা মানুষ। নিজে থেকে না বললে আমরা গায়ে পড়ে
তাঁর কোনো বিষয় জানার চেষ্টা করি না।
আহসানুল হক মিনুর মাধ্যমে ২০০৪ সালে আমজাদ
হোসেনের ‘কাল সকালে’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন।
তখন অপু বিশ্বাস নবম শ্রেণীর ছাত্রী। এরপর ২০০৬ সালে এফ আই মানিক পরিচালিত
‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে প্রধান নায়িকা হয়ে অভিনয় করেন শাকিব খানের
বিপরীতে। ছবিটি ব্যবসাসফল হওয়ার পর অপু বিশ্বাস রাতারাতি তারকা বনে যান।
শাকিব খানের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় দারুণভাবে।
অপু-শাকিব অভিনীত সুপারহিট ব্যবসাসফল ছবির মধ্যে রয়েছে ‘পিতার আসন’,
‘চাচ্চু’, ‘দাদি মা’, ‘মিয়া বাড়ির চাকর’, ‘জন্ম তোমার জন্য’, ‘মায়ের হাতে
বেহেশতের চাবি’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’, ‘লাভ ম্যারেজ’
প্রভৃতি। আর এ জুটি অভিনীত মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘সম্রাট’, আবদুল মান্নানের ‘পাঙ্কু জামাই’,
বুলবুল বিশ্বাসের ‘রাজনীতি’, কালাম কায়সারের ‘মা’ ছবিগুলো। শাকিবের সঙ্গে
জুটি হয়ে কাজ করে অপু চলচ্চিত্রে এরইমধ্যে ১২ বছর পার করছেন। কিন্তু
ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে হঠাৎই নিজেকে আড়াল করেছেন তিনি। গত দুমাসে কোনো
ছবির কাজ করেননি অপু বিশ্বাস।
বর্তমানে অপু বিশ্বাসের তিনটি নম্বরই
বন্ধ। তার মায়ের ফোন নম্বর মামা স্বপনের কাছে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। বলেন,
‘বোনকে আমি খুব একটা ফোন করি না। সে যখন আমাকে ফোন করে তখনই শুধু কথা
হয়। আর এক এক সময় এক একটি নম্বর থেকে ফোন করে। কোন নম্বরটা দেব বুঝতে
পারছি না।

No comments:
Post a Comment